ঝড় থেমে গেছে অনেক্ষন,
আজ আকাশ টাকে একটু অন্য রকম লাগলো,
কি যেনো একটা মায়ায় আবদ্ধ হয়েছে গোটা আকাশ টা।
মেঘ তারার খেলা আর বিদ্যুতের চোখ রাঙানি তে যেনো অন্য রকম সৌন্দর্য শোভা পাচ্ছে।
বিগত একদিন ধরে যান্ত্রিক সব যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন আমি,
আকাশ আমি প্রতিদিন দেখি কল্পনায় ভেসে যাই,
আজ যেনো কল্পনা বাস্তবের রূপ পাচ্ছে,
কল্পনাতেই ভেসে যাচ্ছি ঝরে উরে যাওয়া পাতার মতো।
সবাই বলে কল্পনা ক্ষণিকের সঙ্গী,
এই ক্ষণিকের জন্য কল্পনাতে বসবাস করার আনন্দ তারা বোঝে না।
এক দশক যান্ত্রিক জীবন পেরিয়ে যখন কিছু দিন কিছু ক্ষণিকের জন্য আমি কল্পনাতে ভেসে যাই মিশে যাই অন্ধকারে নিজেকে অন্য রূপ দিই নিজেকে অন্য ভাবে দেখি তার মতো সুন্দর জিনিস আমি আজ পর্যন্ত অনুভব করিনি।
জীবনের এক চতুর্থংশ কেটে গেছে জীবনের সব হিসাব নিকাশ এক পাশে ফেলে দিয়ে যেনো ভেসে যাই কল্পনার জগতে।
রাতের আকাশের তারা গোনা কঠিন কিন্তু ক্ষণিকের চেষ্টা করতে দোষ কি?
এখানে আমার হারানোর কিছু নেই,
এক পাওয়া না পাওয়ার সঙ্গম স্থলে দাড়িয়ে আছি।

“সুমিতা ওকে নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করোনা।ওর জন্য পাপানকে তুমি সময় দাওনা, যত্ন করোনা।কতবার বলবো,মা-বাবার বয়স বেড়েছে, ওনাদের পক্ষে পাপানকে সামলানো সম্ভব না।”
-“চয়ন,আমি আগেও যা বলেছি এখনও তাই বলবো,পাপান আমার সন্তান আমি ওকে অবহেলা করিনা।ঠিক তেমনই পিহুও আমার সন্তান ওর প্রতি কোনও অবহেলা আমি মেনে নেবনা।হ্যাঁ, এও সত্যিই যে পাপানকে তোমার মায়ের কাছে রেখে পিহুকে নিয়ে আমি বেরিয়ে যাই,কিন্তু যদি ওনারা ঘরে না থাকতেন এর বিকল্প কিছু আমাকে ভাবতে হবে।প্রয়োজনে তুমি পাপানকে দেখবে।”
-“আমি দেখব!চাকরি করবোনা?”
-“আমিও চাকরি করতাম সন্তান সামলাতে গিয়ে চাকরি ছেড়েছি।আর প্লিজ মাইন্ড ইট মিঃদত্তরায়,আইম ইউর বস আ্যট দ্যাট টাইম।তবুও ছেড়েছি চাকরি।”
-“ঐরকম একটা ঠুন্ডাকে জন্ম দিলে তাই করতে হবে।”
-“পিহু ইজ গিফ্ট অফ গড।ওকে এভাবে বলতে পারোনা তুমি।আমি ওকে সমাজের সবার সামনে প্রতিষ্ঠিত করে ছাড়ব।এই লড়াই পিহুর একার না আমারও।”

*****************

কফির কাপে চুমুক দিয়ে সুমিতা চোখের জল মুছলো।স্মৃতির পাতায় এমন কতদিন ছিল যেখানে পিহুকে নিয়ে ওর সঙ্গে চয়ন, চয়নের মা-বাবার এমনকি এই সমাজের সবার সঙ্গে লড়াই করে গেছে সে।তার পাশে কেউ ছিল না তখন।ছোট্ট পাপানকে ছেড়ে চয়নের সংসার ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল শুধু এইদিনের আশায়।বড় হতেই পাপান তাকে সঙ্গ দিয়েছে, তবু ফিরে গেছে বারবারই ওর বাবার কাছে।

আজ সত্যিই বিশেষ দিন সুমিতার কাছে।এতদিনের লড়াইয়ের ফল আজ সবার সামনে আসবে।আজ পিহু ইন্টান‍্যাশনাল ডান্স কম্পিটিশনে নাচবে।যে পিহুকে জন্মের পর থেকে কেউ ঠুন্ডা,কেউ আ্যবনর্মাল,কেউ হাবা,কেউ পাপের ফল বলে এসেছে,সেই ডাউন সিন্ড্রোমের বাচ্চা পিহু বড় হয়েছে, বয়সন্ধিকাল পেরিয়ে এসেছে।নিজেকে প্রমাণ করতে চলেছে সারাবিশ্বের সামনে-“আমি পিছিয়ে নেই,আমি ঠুন্ডা না, আমিও পারি অন্যান্যদের মত একই কাজ।করতে।”

জন্মের পর থেকে সুমিতা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে পড়েছিল ওকে তৈরি করার জন্য।নাওয়া খাওয়া ভুলে ওকে স্পেশাল স্কুলে নিয়ে যাওয়া, আঁকা, নাচ,ক্যারাটে শেখানো সব করেছে।আজ এত বড় মঞ্চে নাচতে পারা বিশাল ব্যাপার।এখানে হারজিত বড় নয়,অংশগ্রহণ করাই আসল কথা।ভারতের হয়ে যে কজন প্রতিনিধিত্ব করছে তাদের মধ্যে পিহুও একজন।এযেন সত্যিই গর্বের কথা সুমিতার কাছে।

****************

-“পিহু যাও ঈশ্বর ও গুরুজিকে প্রণাম করে মঞ্চে ওঠো।মন দিয়ে তাল লয় মিলিয়ে সব করবে।সোনা আমার।ভাই কিন্তু টিভিতে সব দেখবে আজ।”
-(সুমিতাকে প্রণাম করে জড়িয়ে ধরে আধো স্বরে বলে)”তুমি আমার গড,আই লাভিউ মাম্মা।”

সুমিতার চোখে তখন জল।পিহুর নাম ঘোষনা করেছে,সে মঞ্চে উঠেছে।চাপা উত্তেজনা মনে সুমিতার।তার চোখ বন্ধ।শুধু শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আওয়াজ কানে ভাসছে।মিনিট আটেক পর সব বন্ধ,শুধু একটাই আওয়াজ কানে এল -“ওয়ান্স মোর,ওয়ান্স মোর।”আবার শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শুরু।কানে ভাসছে করতালির শব্দ।চোখ মেলে দেখে পিহু দর্শকদের মন জয় করে ফেলেছে।মঞ্চ থেকে নেমে মাকে জড়িয়ে ধরে সে।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীর নাম ঘোষণার সাথে সাথেই দর্শকদের করতালি।সবার মুখে পিহুর নাম।পিহুকে মঞ্চে ডেকে পুরষ্কৃত করা হচ্ছে।কতশত ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানিতে পিহুকে আজ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মনে হচ্ছে।সারাবিশ্বের মিডিয়ার সামনে একটাই নাম।সুমিতা চয়ননকে ফোনে বললো-“চয়ন ১৭বছরের ঠুন্ডা আজ বিশ্বদরবারে সবার মন জয় করেছে।ও নিজেকে প্রমাণ করেছে।আমার লড়াই সফল।তুমি হেরে গেছ চয়ন তুমি হেরে গেছ।”

এরপর পিহুকে জড়িয়ে ধরে বলে সে-“মারে এইতো শুরু এখনও অনেকটা পথ চলতে হবে তোকে।আরও অনেক দূরে এগিয়ে যেতে হবে তোকে।”

সমাপ্ত

‘কাল আমায় একটু মায়ের বাড়ি ছেড়ে দিয়ে আসতে পারবে?’-অর্কভর কাছে জানতে চাইল দিয়া।অর্কভ বলল-‘সামিম কে বলে দোবো,ও দিয়ে আসবে।কখন যাবে বলো?’-‘মা তোমায় দেখতে চেয়েছিলো।তোমার একবার সময় হবেনা যাবার?’ -জিজ্ঞেস করলো দিয়া।অর্কভ জানালো,আগামী কাল সমস্ত অফিস স্টাফেদের সাথে বস্ এর মিটিং আছে।তার সময় হবেনা।অন্য কোনো একদিন সে যাবে।দিয়া অর্কভকে জোর করবেনা এটা অর্কভ জানে।দিয়া খুব সামান্য স্বরে অর্কভ কে ‘হুম’ বলে খাটের অন্যদিকে পাশ ফিরলো।

পরদিন অফিস থেকে ফিরে অর্কভ দিয়াকে জিজ্ঞেস করল-‘কখন ফিরেছো?’

দিয়া বলল-‘আমি যাইনিতো’

-‘কেনো?সামিমকে আমি বলে গিয়ে ছিলাম।
ও আসেনি নাকি?’

-‘না না।আমার শরীরটা ভালো লাগছিল না তাই..’

-‘কী হয়েছে?’

-‘তেমন কিছু না..’

-‘ঠিক তো?’

-‘হুমম।’

অর্কভ দিয়াকে আর বিশেষ কিছু জিজ্ঞেস না করে
ক্লাবে বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে বেরিয়ে গেলো।অর্কভর বন্ধু গ্রুপে সব চেয়ে ঠোঁটকাটা ও
বদমাশ ছেলেটা হলো অনিমেষ চট্টরাজ।ডাকনাম
অনি।তার মত মহাপাকা বন্ধু সব গ্রুপেই এক আধটা করে থাকে।নইলে আড্ডা জমাবে কে।অনির মুখে কিছু আটকায় না।

সেদিন অর্কভর হাত দিয়ে ক্যারামের একটাও গুটি পড়ছেনা দেখে অনি ইয়ার্কি করেই অর্কভকে বলল- ‘বৌদি বোধহয় একদম আদর করছেনা অর্ক বাবুকে।’অনির কথাটা শুনে জোর হাসাহাসি আরাম্ভ হলো।তার কথায় তাল লাগিয়ে অর্পন বলল-‘দেখছিস না,এসে থেকে বৌ এর ওপরের রাগটা সিগারেটের ওপর দিয়ে ঝাড়ছে।অলরেডি
চার চারটে শেষ হয়ে গেছে।’এসব খিল্লি,মশকরাতে
অর্কভ কখনো কিছু মনে করেনা।বরং সেও নিজের
মত যোগদান করে।কিন্তু সেদিন তার মনটা যেন
উদাসীনতায় ভরে ছিলো।তাই সে ওদের মুখের ওপর দুটো খারাপ খারাপ কথা বলে ক্লাব থেকে সোজা বাড়ি ফিরে এলো।রাতে বাড়ি ফিরে ডিনারে কিছু খেলোওনা।দিয়া একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলো ‘খাবেনা কেনো?’কিন্তু অর্কভ কোনো উত্তর না নেওয়ায় দ্বিতীয়বার আর জানতে চায়নি।

অর্কভ আর দিয়ার সম্পর্কটা এমনই।নামে মাত্র তারা স্বামী স্ত্রী।না আছে তাদের কারো প্রতি কারো টান,না আছে জেদ,না অভিমান,না কিছু চাওয়া পাওয়া,না মুহুর্ত, না ভালো মন্দ কথাবার্তা।কিচ্ছু না। কিচ্ছু না মানে- কিচ্ছু না।রাতে কেবল একবিছানায় শোয় তাও মাঝখানে একটা বড় মরুভূমি-যেটাকে পেরিয়ে তারা কেউ কখনো একে অপরকে ছোঁয়নি, আদর করেনি,ভালো পর্যন্ত বাসেনি।আসলে দুজনের অমতেই দুজনের বাড়ির লোকেরা তাদের বিয়ে ঠিক করেছিলো।তাই তাদের সম্পর্কটা অভিনয় ছাড়া আর কিছু নয়।তারা তাদের হারানো প্রেম নিয়ে যে যার মত ভালো আছে।আর সবাইকে এটা দেখিয়ে বেড়ায় যে তারা সুখী।

পরদিন সন্ধ্যেয় ক্লাবে গিয়ে অর্কভ প্রথমে অনি আর অর্পন এর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলে-‘আমার কাল একটু মাথা চড়ে গেসলো। প্লিজ তোরা মাইন্ড করিস না।’অনি আর অর্পন দুজনেই বলল-‘আরে ছাড় ভাই।ওসব তো কালই ভুলে গেছি আমরা।সব কথা মনে রেখে দিলে কী আর জীবন এগিয়ে যাবে।মোদ্দা কথা আমাদের ভালো থাকতে হবে।’ অর্কভ দুই বন্ধুর কথা শুনে এক মুহূর্তে অবাক হয়ে গেলো।এই সাধারন কথাগুলো কেউ আগে তাকে বলেনি কেনো? বললে হয়ত তার আর দিয়ার মধ্যে এতটা দূরত্ব তৈরিই হতোনা।অনি আর অর্পনকে সে দু হাত দিয়ে টেনে বুকে জড়িয়ে বলল-‘সাথী হো তো তুমহারা জৈসা হো।’ বলে সে তখুনি বাইকটা নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো।

অর্কভ তো বুঝলো।কিন্তু,সে দিয়াকে সেটা বোঝাবে
কীকরে?সারারাত চিন্তা করে শেষে যখন ঘুমোতে যাবে,দিয়ার ঘুমন্ত মুখটার দিকে একবার তাকিয়ে
দেখলো।কী মলিন মুখ।ঠিক যেন একটা পরী তার
চোখের সামনে মিষ্টি চোখ দুটোকে বুজিয়ে ঘুমিয়ে আছে।এই মেয়েটার দিকে সে কোনোদিন তাকায়নি,
একবারও কেনো তার ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়নি এমন মায়া মাখা মুখটাকে?হায়!কী অপরাধই না সে করে এসেছে এতদিন।তার প্রবল প্রণয়ের ইচ্ছে আর বাধা মানছিলো না।তবু,তাকে যে অপেক্ষা করতে হবে।

পরদিন ঘুম ভাঙতেই তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে
গেলো।মেয়েরা সাধারনত তাদের মা বাবার প্রতি
একটু দুর্বল হয়।কারন তারা মা বাবার সবচেয়ে আদরের।দিয়া তো কদিন আগে তার মায়ের বাড়ি যেতে চেয়েছিলো।এই সুযোগ,দিয়ার মা তার জামাই কেদেখতে চেয়েছিলো।অর্কভ যদি সেদিনই আচমকা দিয়াকে নিয়ে তার মায়ের বাড়ি যায় তাহলে দিয়ার মা ও আনন্দ পায় আর দিয়ার মনেও খানিকটা তার জন্য ইম্প্রেশন জন্মায়।হলোও সেটা। দিয়াকে তার মায়ের বাড়ি নিয়ে যেতে, দিয়ার মা ও দিয়া দুজনেই অর্কভর প্রতি সন্তুষ্ট হলো।ফেরার পথে গাড়িতে বসে দিয়া অর্কভ কে বলল-‘হঠাৎ কিছু না বলে আমায় নিয়ে এলে যে?’অর্কভ সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অন্য একটা কথা বলল- ‘আজকে আমরা শপিং মলে যাব।আর রাতে বাইরে ডিনার করবো।’ দিয়া খুশি হলো।কিন্তু কতটা যে খুশি হলো সেটা অর্কভকে বুঝতে দিলো না।রাতে বাড়ি ফিরে দিয়া অর্কভ কে ‘thanks for everything’ বলে ঘুমিয়ে পড়ল।অর্কভ যেটা ভেবেছিলো যে দিয়া সহজে সব কিছু মেনে নেবে সেটা হলোনা।

দুদিন,তিনদিন,একহপ্তা গেলো।অর্কভ নানা অছিলায় তার মনে জায়গা করতে চেষ্টা করলেও সেই ভাবে তার অভিসন্ধি সফল হচ্ছে না দেখে একদিন সে বাধ্য হয়ে দিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো -‘কিছুই কী বুঝতে পারছো না?’ দিয়া বলল-‘আমরা মেয়েরা না পুরুষের চোখ দেখলে পুরোটা বুঝে যাই।তারা কী চায়,..।’

-‘তাহলে?’

-‘তাহলে কী?তুমি তোমার প্রেমকে অত সহজে ভুলে
যেতে পারো।আমি তো পারিনা।’

-‘কী করলে তুমি আমায় তোমার ভালোবাসার মানুষ করে নেবে বলো..আমি তাই করবো।’

-‘কাকে কখন কীভাবে ভালোলাগবে তা তো জানা নেই।হয়ত আচমকা একদিন..হয়ত কোনোদিন না।’

দিয়ার উত্তরে অর্কভর অন্তরটা যন্ত্রনা পেলো।সে
দিয়াকে জোর করতে পারেনা।তাই সে ভাবলো দিয়া
যেদিন তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নেবে সেই দিনটার
জন্য সে অপেক্ষা করবে।

একদিন সন্ধ্যেয় ইলেক্ট্রিক চলে যেতে ঘরের মধ্যে বাতি খুঁজতে গিয়ে অর্কভ অজান্তে দিয়ার হাত ছুঁলো।চারিদিকে তখন ঘন অন্ধকার।বাইরের মৃদু হাওয়া তাদের গায়ে এসে লাগতে তাদের দুর্বল করলো।মুহূর্ত জন্ম নিলো। অর্কভর হাত দিয়ার কোমরের কাছে,দিয়া চোখ বন্ধ করে ফেলেছে অর্কভর গরম নিঃশ্বাসের সামনে।উত্তাল চাহিদায়
ঠোঁটের মিলনের ঠিক আগের মুহূর্তে অর্কভ দিয়ার
কোমর থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে একটু পিছিয়ে গেলো।মুহুর্ত জন্ম নিলো কিন্তু,মুহুর্ত কোনো নতুন
মুহুর্তের জন্ম দিলো না।চুম্বন অসমাপ্ত রয়ে গেলো।ঘোর কাটতে দিয়া যেন একটু লজ্জা পেলো।কিন্তু সে মনে মনে এটা ভাবতে ভালো লাগলো যে,অর্কভ দিয়ার ব্যপারে সব জেনে বুঝে তার নিজের স্ত্রী হওয়ার সত্ত্বেও সে সুযোগ নেয়নি।সে অর্কভর প্রতি
কিছুটা ইম্প্রেশ হলো।এমন মানুষই তো সে জীবনে
চেয়েছিলো যাকে অন্ধকারেও বিশ্বাস করা যায়।
সুমন তার প্রথম প্রেমিক,তার এই বিশ্বাসটা ভেঙে দিয়েছিলো।কিন্তু,তাও এতদিন সে সুমনকেই অন্তরে রেখেছিলো।ভুলতে পারেনি।কিন্তু,অর্কভর মধ্যে ফের নতুন করে দিয়া বিশ্বাসটা খুঁজে পেয়েছে।সেই অমিলন চুম্বন সেদিন রাতেই চুম্বনে মিলিত হয়ে ছিলো।বিয়ের পর প্রায় দেড় বছর লেগে গেলো তাদের প্রথম ফুলশয্যা হতে।

 

জানিস আজ না সে তোকে আর চিনতে পারে না,
তোর কঠিন কথাগুলো আজ আর তাকে কষ্ট দেয় না,
সবাই বলে সে নাকি কষ্ট পেতেই ভুলে গেছে,
সবাই বলে, ঠিক বলে…
তবু আজও সে কাঁদে কেনো??

কারন, কষ্ট সে এখনো পায়,
পার্থক্য খালি একটাই যে সে তোর সঙ্গে কাটানো কিছু ভালো মুহূর্তকে পাওনা মেনে সবকিছু ভুলে থাকতে শিখে গেছে।
সে প্রতিনিয়ত নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে তার মধ্যে থাকা ভালোবাসাটাকে বাড়িয়ে চলেছে,

যার চরম পরিণতি তার নিজেরো অকল্পনীয়,
ভালো থাকিস।।

 এই যে গল্পটা, যেটা তুমি লিখেছো তার সূত্রপাত এক অন্য কলমের দ্বারা। তার শ্রষ্টা কিন্তু তুমি নও। তুমি খালি গল্পটাকে একটা নতুন রুপ দেবার চেষ্টা করছো হয়তো। হতে পারে গল্পটা প্রকাশিত হলো তোমার হাত দিয়ে, হয়তো গল্পটার উপরে বড়ো বড়ো করে থাকলো তোমার নাম, হয়তো বা সবাই জানলো যে সেটা তোমার গল্প।
সবই কিন্তু হয়তো!
মাধুর্য, মিষ্টত্ব, গভীরতা এমনকি গাম্ভীর্যতাটা পর্যন্ত তোমার করে নিলেও আসলে কি সেটা তোমার?? নিজেকে প্রশ্ন করে দেখোতো,
যেটাকে তুমি নিজের বলছো, সেটা আদপেও কি তোমার?
তবু জিনিসটাকে বড্ড ভালোবাসোতো?
জানি বড্ড ভালোবাসো গল্পটাকে, তবুও খুব খচ্ খচ্ করে না বুকের ভিতরটা? যে কাশ যদি গল্পটা আমার হতো, কাশ যদি গল্পটা আমাকে দিয়ে শুরু হতো। এইরকম একটা আক্ষেপ থাকেই, থাকাটাই স্বাভাবিক বোধহয়।
আসলে কি বলোতো, গল্পটা তুমি যত সুন্দর ভাবেই সাজাও না কেনো, গল্পটার গঠনকারী হিসেবে তুমি সবার কাছে শ্রেষ্ট প্রেমিকা হয়ে উঠলেও তোমার কাছে তুমি কি??
আমি বলছি,
তুমি গল্পটার শ্রেষ্ট প্রতিষ্ঠাতা হলেও,
কখনোই তার লেখিকা হয়ে উঠতে পারোনি, কখনোই তার প্রেমিকা হয়ে উঠতে পারোনি।
তবু একতরফা তোমার গল্পটা বৃথা নয়, সে একতরফা ভাবেই পূর্নতা পাবে,
তার নিজস্ব জগতে, তার নিজস্ব রুপে।।

error: