কবিগুরুর ‘জুতো আবিষ্কার ‘বা সুকুমার রায়ের ‘যতীনের জুতো’ পড়েছি তো অনেকেই, বা আরো অনেক বিখ্যাত লেখকের জুতো নিয়ে নানা কাহিনী। সেগুলো নিঃসন্দেহে মজার। সুমনা নিজেও সেগুলো ভারি এনজয় করে, কিন্তু সুমনা নিজে যেসব কাহিনীর জন্ম দিয়েছে সেগুলোর কথা ভাবতে বসলে, ও অবাক হয়ে ভাবে একটা মানুষের জীবনে এতোগুলো জুতো কাহিনী থাকতে পারে?
আসলে সুমনা খুব ভুলোমনা, যার জন্য ওর বর অরিজিৎ ওকে বলে ওর নামটা পাল্টে ভুলোমনা করে দিতে হতো। একেকটা ভুলের ঘটনা ঘটায় সুমনা আর অরিজিৎ বলে, “বাবা মা কেন যে ভুলোমনা নাম না রেখে সুমনা রাখলেন কে জানে !”আর প্রত্যেক বার ই সুমনা ভাবে এর পরের বার অরিকে বলবে যে নামটা যখন রেখেছিলো ওর মা, তখন তো আর মা জানতো না যে বড় হয়ে মেয়ে এরকম ভুলোমনা হবে। কিন্তু প্রতিবার ই সেটা বলতে ও ভুলে যায়। পরে মনে পড়ে ।
আজ যে কান্ডটা করেছে সুমনা, সেটার জন্য লজ্জায় ভারি মনখারাপ করছে, মনে মনে ভাবছিলো তাই যে, নাঃ এবার একটু সচেতন হতে হবে, এসব ভাবতে গিয়েই পুরোনো ঘটনাগুলো ও মনে পড়ে যাচ্ছিলো। এবারে মেয়ে ও একটু বকেছে মাকে, কারণ ওকেও ভারি লজ্জায় পড়তে হয়েছিল। সুমনার ছেলে ঝিলম অবশ্য বলেছে, “মায়ের মেমরি তো মোটেও কম নয়, বরং বেশি , এই বয়সে এতো এতো কবিতা কার মুখস্ত থাকে? পড়ানোর সময় ও তো মা কিছু ভুলে যায় না, তাহলে? স্কুলের ছাত্রীদের ও কেমন মনে রাখে মা, বল, কবেকার কবেকার ছাত্রী সব ফোন করলে মা ঠিক বলে দেয় দেখিস, ও তুমি দশের মাধ্যমিক ব্যাচের, মিতশ্রীদের ব্যাচ, ও তুমি তো দেবযানীদের ব্যাচ, এসব। মেমরি কম নয়, আসলে মা একটু নিজের খেয়ালে থাকে তাই। “
তো, সে যাই হোক, আজকের ঘটনাটা যেহেতু জুতো নিয়ে, তাই সুমনা জুতো নিয়ে ঘটনাগুলোই ভেবে চলছিল, নইলে তো ছাতা, খাতা, চাবি তালা সব নিয়েই নানা ঘটনা আছে। কি আর করবে যত সচেতন থাকার চেষ্টা করে ততই বেশি করে ভুল করে ফেলে।
আজকে গিয়েছিল ঝিমলিকে নিয়ে নতুন একজন স্যারের কাছে, ফিজিক্স পড়ান, খুব নাম ডাক। অরিজিতের অফিস আছে, তাই যেতে পারবে না, যদিও এর আগে একদিন কথা বলে এসেছে অরিজিৎ ই। আজকে স্যার সব গার্জিয়ান দের নিয়ে একটা মিটিং করবেন বলে ডেকেছিলেন, অরিজিতের বদলে ঝিমলি কে নিয়ে তাই সুমনাই গেলো স্যারের বাড়ি। বেশ কথা বার্তা হোলো, কবে, কখন ইত্যাদি দরকারি আলোচনা। সুমনা যদি ভুলে যায়, তাই একটা ডায়রির পাতায় লিখে রাখলো। ঝিমলি অবশ্য ফোনেই দরকারি কথা গুলো রেকর্ড করে নিলো, যাইহোক সব ভালোমত মিটে গেলো। স্যারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গলির মুখে এসে টোটো ধরে রওনা হোলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। মা মেয়েতে গল্প করতে করতে ফিরছে বাড়িতে, হঠাৎ অরিজিতের ফোন, দেখেই সুমনা একটু বিরক্ত হয়েই বলল ঝিমলিকে, “উফফ, তোর বাবা ভাবছে এই কাজটা ও বোধহয় আমি পারবো না, কনফিডেন্সটাই নষ্ট করে দেবে “
বলতে বলতে ফোন ধরে অরিজিৎকে কিছু না বলতে দিয়েই বলে ওঠে, “আরে বাড়ি গিয়ে সব বলছি “তারপরই থমকে যায় ওপাশ থেকে গম্ভীর গলায় বরের ধমকে, “কি জুতো পড়ে আছো, দ্যাখো আগে!”
“মা মা মানে? “
“মানে মানে পরে করো… জুতোটা দ্যাখো আগে “
“হ্যাঁ হ্যাঁ দেখছি, দেখছি “
“কেন? জুতো পড়ে আছি তো, মানে ওই যে বাটা
থেকে কেনা ডক্টর scholl এর জুতো, আরে গত বার পূজোয় কিনলাম যে গো “
” ওটা পরেই কি বেরিয়েছিলে? ভেবে বলো “
খুব কনফিডেন্টলি বলতে যায় সুমনা, “হ্যাঁ “কিন্তু গলায় ঠিক সেই জোরটা ফোটে না।
ঝিমলি ও কিছু একটা গন্ডগোল বুঝতে পেরে মায়ের পায়ের দিকে তাকাতে যায়, আজকে আবার স্যারের বাড়ি যাচ্ছে বলে শাড়ি পরে বেরিয়েছিল সুমনা, তাড়াতাড়ি শাড়িটা একটু উঠিয়ে দেখে একটু চেঁচিয়েই বলে, “ওমা, এটা তো তোমার জুতো না, এটা তো একদম নতুন, তোমারটা তো একটু পুরোনো হয়ে গেছে, এমা “
ওদিকে ফোনে অরিজিৎ সুমনার এক নম্বর অরি হয়ে ধমকাচ্ছে, “সত্যি সুমি, তুমি আর পাল্টালে না, যাও স্যারের বাড়ি আবার যাও, জুতো ফিরিয়ে দিয়ে এসো , যাও “শেষের ও টা খুব জোরে বলায় সুমনার প্রায় চোখে জল এসে পড়ে, নিজের ওপর নিজেরই রাগ ওঠে।
কিন্তু স্যারের বাড়ি গিয়ে তো এতো লজ্জায় পড়ে যে সুমনার মনে হয় বলে, “হে ধরণী, দ্বিধা হও”। ঘটনাটা হোলো এই যে স্যারের মিটিং এ আজ যে গার্জিয়ানরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে মহিলা ছিলেন সুমনাকে নিয়ে মাত্র তিনজন। সুমনা দরজার কাছে বসায় মিটিং শেষে তাড়াতাড়িই বেরিয়ে যেতে পেরেছিল আর ওই দুজন মহিলা ঘরের ভেতরের দিকে থাকায় সবার শেষে বেরিয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজনের জুতো হোলো যেটা সুমনা পরে আছে। আরেকজনেরটা পাম্পশু সেটার সাথে বদলানোর কোনো সম্ভাবনা নেই এবং আরেকটি জুতো যেটি বারান্দায় রাখা রয়েছে সেটি হোলো একটি বাড়িতে পরার স্লিপার।বাকি সবাই পুরুষ। তাই তাঁদের সাথে পাল্টা পাল্টি হওয়ার চান্স নেই। স্বাভাবিক ভাবেই ভদ্রমহিলা মানে যাঁর বাটার ডক্টর স্কোলের জুতোর বদলে বাড়িতে পরার স্লিপার রাখা তিনি হতভম্ব হয়ে স্যারকে বলেন, স্যার ও অবাক, তাঁর বারান্দা থেকে জুতো তুলে নিয়ে যাবে কেউ সেটা সম্ভবই নয়, কোনোদিন এমন ঘটনা ঘটে নি আর তাছাড়া এই স্লিপার টাই বা কার? তখন একজন গার্জিয়ান বলেন যে আরেকজন ভদ্রমহিলা ও তো ছিলেন, মা ও মেয়ে দরজার কাছে বসে ছিলেন, যাঁরা মিটিং শেষে চলে গেছেন। স্যার তখন ডায়রি দেখে ফোন করেন অরিজিৎকে। অরিজিৎ তাঁর কলিগ প্রশান্তদার থেকে স্যারের খোঁজ পেয়ে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং ঝিমলির গার্জিয়ান হিসেবে ওঁরই ফোন নম্বর দেওয়া ছিল, তাই স্যার আন্দাজ করে অরিজিৎকে ই ফোন করে বলেন এবং পুরো ঘটনায় স্যার ই যেন লজ্জিত হয়ে পড়েছেন। সুমনা বুঝলো স্কুল থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি করে বাড়ির একটু কাজ করে স্যারের মিটিং এ যাওয়ার সময় স্লিপার খুলে বাইরের জুতো পরতে ভুল হওয়ায় এই বিপত্তি। আর শাড়ি পরা বলে পায়ের পাতায় চোখ ও পড়েনি মা মেয়ে দুজনের ই। গিয়ে দেখেছিলো ঘর ভর্তি, জুতো খুলে তাড়াতাড়ি দরজা দিয়ে ঢুকে বসে পড়েছিল। আর সুমনার যেহেতু ওরকম ই একটা জুতো আছে তাই আরো ভুল হয়ে গিয়েছিলো। ভুল করে বলে ওর সবসময় মনে হয়, কিছু ভুল হোলো নাতো, কিছু ভুল হোলো নাতো!কিন্তু ভুল তো হয়েই যায়। ও লজ্জায় কিছু বলতে পারছিল না, মনে হচ্ছিলো ভদ্রমহিলা ওকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন। ঝিমলি ই মায়ের ভুলোমন স্বভাবের কথা বারবার বলে, সরি এক্সট্রিমলি সরি আন্টি এসব বলে ড্যামেজ কন্ট্রোলের আপ্রাণ চেষ্টা করে মাকে নিয়ে ফিরলো বাড়িতে। কিন্তু বাড়িতে এসে ও বলছে এই স্যারের কাছে ও পড়বে না। ওই ভদ্রমহিলার ছেলে ও পড়বে, ঝিমলিকে কি ভাববে, কেমন এর মা, তাছাড়া স্যার ই বা কি ভাবলেন এই সব বলছে। অরিজিৎ ও রাগ করছে। উফফ, এই মনটাকে নিয়ে সুমনা যে কি করে। সু উ উ মনা, নিজেই ভেঙ্গাতে ইচ্ছে করে সুমনা না কুমনা!
আর শুধু আজকের ঘটনাটা হলেও না হয় হতো। এর আগে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটিয়েছে সুমনা। পূজো দিতে গিয়ে মন্দিরে দামী চটি ফেলে অন্যের পুরোনো ছেঁড়া চটি পরে বাড়ি এসেছে, যেরকম ওর একটা চটি বাড়িতে ছিল। বাড়ি এসে শ্যু ৱ্যাকে চটি রাখতে গিয়ে দেখে আরে এরকম চটি দুটো হোলো কি করে !তারপর বুঝল যে ও অন্য একটা দামী চটি পরে গিয়েছিলো যেটার বদলে ও অন্য কারো পুরোনো চটি পরে চলে এসেছে। কিন্তু সে তো নাহয় ওর দামী চটি গেলো। কিন্তু এবারের টা যে বড় লজ্জার ব্যাপার হলো। স্যারের সাথেও নতুন পরিচয়।
অনেক রাগারাগির পর অরিজিৎ মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টায় বলে, “আরে তোর মা, বিয়ের নতুন জুতোর কি কান্ড করেছিল জানিস কি !”ঝিমলি মুখটা গোঁজ করে বসেছিল “রেগে বলল, “জানিনা, আর জানতে চাইও না “
“শোন না, শোন না, অতো রাগ করলে কি চলে, তোর মা তো ভুলে যায়, জানিস ই তো, অন্য সময় তো তুই ই মায়ের হয়ে আমার সাথে লড়াই করিস, আর রাগ না করে শোন সেই কান্ডটা “
মেয়েকে মায়ের গল্প শোনাতে শোনাতে মাঝে মাঝে সুমনার সমর্থন চাইছিলো অরিজিৎ, তাই না, বলো না এসব বলে। সুমনা কাজ করতে করতে ভাবছিলো সেই আরেক লজ্জা দিনের কথা। নতুন বিয়ের পর রাতের বাসে করে কলকাতা গিয়েছিলো সুমনার মামাবাড়িতে। ফেরার সময় ও বাসেই ফেরা। ভোরবেলা বাস থেকে মালদায় নেমে বাড়ি। বাড়িতে এসে হাত পা ধুয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিল, ঘুম ভাঙলো হাসি ঠাট্টা চেঁচামেচিতে। ঘুম চোখে ঘরের বাইরে এসে দেখে হ্যাঁ, সেই হাসির পাত্রী। সকালে ঠিকে কাজের মেয়ে রেবা এসেছে, সামনের দিকটা ঝাড় দিতে গিয়ে রেবার চোখে পড়ে কোণার দিকে এক পাটি, এক পাটি চটি রাখা। যার একটা তো রেবা চেনে, নতুন বৌদির চটি কিন্তু আরেকটা পাটি তো চোখে পড়ছে না, তাহলে সেটা কোথায়? আর আরেকটা পাটি তো একেবারে পুরোনো অন্য রকম একটা চটি, সেটাই বা এক পাটি কেন? প্রথমে রেবা ভেবেছিল দাদা বৌদির সাথে বোধহয় কেউ এসেছে, কিন্তু এক পাটি করে চটির রহস্য ভেদ করতে না পেরে সুমনার শাশুড়ি মা কে গিয়ে ডাকে। সুমনার শাশুড়ির চেঁচামেচি শুনে শ্বশুর, দেওর সবাই উঠে এসে রহস্য ভেদের চেষ্টা করছিলো এবং দেওর একদম রহস্য ভেদির কায়দায় বলে ওঠে, আর কি, বৌদিই দু পায়ে দুরকম চটি পরে এসেছে। নিশ্চয় ই চটি খুলে ঘুমিয়েছিল, বাস থেকে নামার সময় খেয়াল করেনি, তাড়াতাড়ি সামনে যা পেয়েছে পরে নেমে গেছে।
বাস্তবে সেটাই ঘটেছিলো আর শ্বশুর বাড়িতে নতুন অবস্থাতেই ভুলোমনা, বেখেয়ালি, কি যে ভাবে এসব বদনাম জুটেছিল। যদিও তখন সুমনা ও ওদের সাথে হাসাহাসিতে যোগ দিয়েছিলো আর ওদের বি.এড. কলেজের বিরাট খ্যাতনামা প্রিন্সিপাল স্যার যে একদিন দু পায়ে দুরকম চটি পরে ক্লাসে এসেছিলেন সে গল্প করেছিল। হঠাৎ শ্বশুরমশাই বলে উঠেছিলেন, “কিন্তু, তোমার বিয়ের চটি তো আর রইলো না। “সেই তো!চটি বা জুতো তো এমন জিনিস যা সবসময়েই যে দুয়ে মিলেই সম্পূর্ণ হয়। ইসস, মনটা এবার কেমন করে ওঠে সুমনার, মায়ের সাথে গিয়ে পছন্দ করে কিনেছিলো বেশ সুন্দর চটিটা। পরে আলাদা পাটির চটি দুটো এনে জুতোর বাক্সে ভরে আলমারির নিচে রেখে দিয়েছিলো। আজ ও সেখানেই আছে সুমনার গোপন ব্যথার অংশ হয়ে!

ঝিমলি ডাইনিং এ বসে খুব শব্দ করে পিয়াঁজ কাটছে আর বকবক করছে।পিয়াঁজের ঝাঁজে চোখ নাক দিয়ে জলের ধারা।ওড়না দিয়ে একবার মুখ টা মুছে নিয়ে আরো হাতের গতি বাড়িয়ে দিল।একটু কান পাতুন শুনতে পাবেন !!সব মানুষ এক ।দরকার পরলে ঝিমলি দরকার মিটে গেলে আমাকে আর চেনে না ।তখন আমি এলেবেলে। একটু দূরে একটা পুচকে মেয়ে বসে চোখ মুছছে ।কিছুক্ষন পর বললো পিপি আর পিয়াঁজ কেটো না ।আমার কষ্ট হচ্ছে তো ।তুমি এবার অন্য কিছু কাটো।ওড়না দিয়ে মুখ টা আর একবার মুছে নিয়ে ঝিমলি বললো _ওরে আমার সোনা ,তোর কষ্ট হচ্ছে।তাহলে কি কাটি বলতো? না কাটলে যে আমার রাগ কমবে না। পুচকে টা বললো ও পিপি দাড়াও।আসছি বলে বোঁটা শুদ্ধু একটা লাউ টেনে নিয়ে এলো।পিয়াঁজ সরিয়ে ঝিমলি লাউ কাটতে বসলো।ছোট বড় এঁবড়ো খেঁবড়ো কাটার পর মনে হল না একটু রাগ টা কমেছে। এমন সময় পুচকে টা বললো পিপি পালাও মা আসছে। অমনি পিপি _ভাইঝি ছুটে ঘরে ঢুকেগেল।

ছাদে ঠাকুরঘরে পূজো করছিল পিয়া।নিচে নেমে ডাইনিং এর হাল দেখেই বুঝলো তার ননদের আজ আবার কোন ব্যাপারে রাগ হয়েছে। মা মরা মেয়ে।দাদা বৌদির কাছে থাকে।দাদা তো বোন বলতে পাগল।পিয়া ও খুব ভালবাসে ননদ কে ।কিন্তু প্রকাশ করে না।একজন কে সংসারে কড়া হতে হয়। তাই পিয়া আপাত গম্ভীর মুখোশ পরে থাকে। ঝিমলি খুব ভাল মনের মেয়ে ।কিন্তু মাঝে মাঝে খুব রেগে যায় ।আর রেগে গেলেই সবজি কেটে মনের রাগ টা মিটায়।
পিপি _ভাইজি ঘরে পালিয়েছে বুঝতে পেরে পিয়া সব কাটা সবজি ডাস্টবিনে ফেলে পরিস্কার করে ঝিমলির ঘরে এল। ঝিমলি তখন রসিদ খানের গানে মগ্ন।বালিস দিয়ে চোখ চেপে শুয়ে আছে।পাশে তার ভাইঝি টা কাঁদো মুখ করে বসে আছে।বেশ বুঝতে পারছে ভাল একটা গোলমাল পেকেছে। ইচ্ছা করে রাগী গলা করে পিয়া বলে তোমরা দুজন কি আজ দুপুরে খাবে না?তাহলে বলে দাও ।আমি কি খাবার বাড় বো? ঝিমলি বউ দিকে একটু ভয় পায়। ভালও বাসে ।এখন হটাৎ খুব কান্মা পেল ।মা থাকলে ভাল হত। পুচকে টা বুঝতে পেরে বললো ও পিপি কাঁদে না গো।ফ্রিজে ক্যাডবেরী আছে বিকালে খাব দুজনে। ঝিমলির আরো জোরে কান্না পেল।পিয়া ও নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললো চল খেয়ে নে,তারপর মাথা ঠান্ডা করে আমাকে সব কথা বলবি ।কি হয়েছে !!।
ছোট বেলা থেকে অবাধ যাতায়াত রানি কাকিমার বাড়ি তে। রানি কাকিমার মেয়ে নেই তাই ঝিমলিই ঐ বাড়ি র সব সময় নিজের মত করে থেকেছে।কাকু কাকিমা খুব ভালবাসে ঝিমলি কে।বাড়িসাজানো ।বিছানার চাদর,পরদার রঙ,নতুন কি আসবাব আসবে ,পূজোর কেনাকাটা সব ই ঝিমলি কে নিয়ে করেন রানি কাকিমা।ওদের ডাক্তার দেখানর হলেও ঝিমলি । ঘর গোছাতেও ঝিমলি ।ঝিমলি ছাড়া রানি কাকিমা অচল। দুদিন ঝিমলি না গেলে কাকু বাড়ি তে চলে আসে ।কি হল তার মায়ের খোঁজ নিতে।ওদের একটা মাত্র ছেলে ।একদম হুকোঁমুখো।চুপচাপ ।পয়সা রোজগার করা ছাড়া আর কিছু বোঝে না।শেষ ৫ বছর ধরে তার জামাকাপড় ও ঝিমলি ই কেনে। তার ঘর ও ঝিমলির পছন্দে সাজানো। সব দরকারে ঝিমলি আর এখন অমনি ঝিমলি এলেবেলে।
পিয়া বলে এবার বল কি হয়েছে। বৌদি কে জরিয়ে ঝিমলি কেঁদেওঠে ।জান এখন আমি এলে বেলে গো !! ও বাড়ি তে বিয়ে ঠিক হয়ে গেল আমাকে কেউ বললো না। পিয়া বলে কার বিয়ে ?অমিতের? কবে রে ?রানি কাকিমা তো আমাদের ও কিছু বলে নি!!সে কি রে ।এমন হবার তো কথা না ।ঝিমলি বলে হ্যাগো ঐ হুকেমুখোর আলমারি গোছাতে গিয়ে দেখি __সুন্দর সুন্দর চুরিদার, গোলাপী লিপষ্টিক।কত কি।আমি যেই রানি কাকিমা কে বললাম _হ্যাঁ গো কাকিমা এগুলো কার ।অমনি হুকোমুখো চেঁচিয়ে বলে ও গুলো আমার বউ এর যেন কেউ হাত না দেয়!! ওর বউ এর জিনিসে হাত দিতে আমার ভারী বয়ে গেছে।দরকারে আমাকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে ছে ।আর আজ অমনি বউ জুটিয়েছে ।কেন তাকে দিয়ে কাজ করাতে পারে নি ।কাজের সময় ঝিমলি ঝিমলি !!আর কাজ মিটে গেলে আমি এলেবেলে।একবার কেউ জানালো না অবধি।কাকু আমাকে মা বলে সেও কিছু বললো না !!।
পিয়া কিছু ভাবলো ।তারপর বললো !!শোন ওদের জন্য তো অনেক করলি ।এবার নিজের কথা ভাব।তোরও ২৫ বছর বয়স হল।এবার আমরা দেখেশুনে একটা ভাল ছেলের সাথে তোর বিয়ে দিয়ে দিই।নিজের সংসার হবে তোর ।সেখানে কেউ তোকে এলেবেলে ভাবার সাহস পাবে না। বিয়ের কথায় ঝিমলি আরো জোড়ে কেঁদে উঠলো। পিয়া বললো চল মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি ঘুমিয়ে পর একটু ।

পিপি _ভাইঝি জড়াজড়ি করে ঘুমিয়ে পরলে পিয়া একটা ফোন করলো ।তারপর মুচকি একটু হাসি দিল। এবার কদিনের জন্য ঘুরতে যেতে হবে ।অনেক দিন ঘোরা হয় না। ঝিমলির খুব সমুদ্র ভাললাগে। তাছাড়া শুভ কাজে দেরী করতে নেই।।
পিয়া ঝিমলি কে বলেছে তুই ঐ বাড়ি আর যাস না ।ওদের দরকার ওরা ই মিটিয়ে নিক। আমরা কাল গোপালপুর যাব।দিঘা পুরীর মত ভীড় নেই ওখানে ।কিন্তু খুব সুন্দর জায়গা ।দাদা ৫ দিনের ছুটি নিয়েছে ।।কিন্তু সন্ধ্যে থেকে একটা ফোন আসছে সমানে ।ঝিমলি কেটে দিচ্ছে আবার আসছে ।শেষে ফোন টা বন্ধ করেই দিল ঝিমলি ।দূর বেড়াতে যাবার আনন্দ হচ্ছে না কেন কে জানে ।পুচকে টা ক্যাডবেরী নিয়ে এলো ।পিপি _ভাইঝি মিলে খেল।তারপর বৌদির কথা মত ব্যাগ গুছাতে বসলো ।দাদা ও খুব খুশি বেড়াতে যাবে বলে ।থাক রাত টা কেটে গেলেই হল।
ভোরবেলা বেড়িয়ে পড়লো ৪জনের পরিবার।
৫ঘন্টা পর পৌছে গেল।এবার পুচকে টা বায়না করছে ফটো তোলার জন্য। ফোন টা খুলতেই হল।ওরে বাবা খুলতে খুলতে ১৫ টা মিস কল।।
দেখ কেমন লাগে !!আমি এলেবেলে তো ।যাক না ওর বউ কে নিয়ে AC কিনতে ।আমার কি দরকার ।দরকারে ঝিমলি আর দরকার মিটে গেলে ই ঝিমলি এলেবেলে ।

অভ্যাস বড় বিষম বস্তু ।একবার হয়েগেলে সেখান থেকে বেড়ান খুব মুসকিল।ঐ বাড়িটা ঝিমলির রক্ত মজ্জায় মিশেগেছে ।ঐ বাড়ির মানুষ গুলো ওর পছন্দের পোষাক পরে ।ওর পছন্দের রঙ ওদের বিছানার চাদরে লেগে আছে ।বাড়ি একটা মগ ও ঝিমলির পছন্দে আসে ।তাহলে বাড়ির বউ কি করে ঝিমলি কে বাদ দিয়ে পছন্দ করলো? রান্না করার সময় রানি কাকিমা বলবেই _কি রান্না করি বলতো?আজ ২ দিন হল ওরা কি করছে ?কাকু যে সব সময় বলে ,আমি নাকি কাকুর মা ।সে কি করছে ?একবার ও ফোন করে নি ওরা ।শুধু হুকোমুখো টা কম করে ৩০ টা মিস কল। অনেক দিন ধরে AC কেনার কথা হচ্ছিল।কিন্তু একসাথেদুটো কেনে হবে বলে দেরী হল।একটা কাকু কাকিমার ঘরে আর একটা হুকোমুখোর ঘরে ।যা না বাবা নিজের বউ কে নিয়ে । আমি তো এলেবেলে।

দুপুরে খাবার সময় হল ।বউ দি খিদে পেয়েছে ।বৌদি বললো বিস্কুট খা ।আর একটু পর খেতে যাব।পুচকে টার ও খিদে পেয়েছে ।দুর আজ বৌদি কেন দেরী করছে কে জানে ।দড়জা বন্ধ করা ওদের ঘরে । ঝিমলি পুচকে টা কে নিয়ে বিচে গেল।এলোমেলো ঘুরছে হটাৎ চেনা লোক!!ঐ মুখ টা বন্ধ কর বালি ঢুকবে ।এতবার ফোন করেছি ধরিস নি কেন?আমাকে এতটা আসতে হল কাজ ফেলে ।জানিস কত টাকা লস হল। দুদিন পর বিয়ে আমার ।এই সময় এত লস হলে বৌকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা হানিমুনে যাব কি করে? ঝিমলি তুতলে বললো কি করতে এসেছো তুমি ।যাও না তোমার বউ কে বল তোমার কাজ করতে ।আমি আর কোন কাজ করবো না তোমাদের । আমি তো এলেবেলে ।বলে পুচকের হাত ধরে হাটতে লাগলো ।পথ আটকে দাড়িয়ে বললো এতদিন তুই করেছিস ।চীরকাল ই তোকেই করতে হবে ।অভ্যাস যখন করেছিস নিস্তার নেই । আমার বিয়ের পর ও তোকেই সব কাজ করতে হবে ।চল বাড়ি চল ।তুই না গেলে ঐ বাড়ি বড় ফাঁকা লাগে ।চল রাগ তো আমার উপর ।বাবা মাকে কেন কষ্ট দিচ্ছিস। ঝিমলি বললো তুমি কি করে জানলে আমরা এখানে । বললো বউদি বলেছে ।কি?বউদি?আমি জানি না !!আমিসত্যিই কি এলেবেলে ।
হোটেলে কাছে আসতেই বৌদি বললো কিরে এখন খিদে পাচ্ছে না আর । ওমা দাদা যে মিটি মিটি হাসছে । আরে রানি কাকিমা আর কাকু না ।সবাই এখানে । কাকু বললো মারে আমাদের হাত থেকে তোর নিস্তার নেই ।তোমরা আসছো বউদি বলে নি তো !! দাদা তুই তো বলতে পারতিস। তুই ও আমাকে এলেবেলে করে দিলি । খাওয়ার পর রানি কাকিমা বললো আর কাকু কাকিমা বলবি না ।মা বাবা বলা অভ্যাস কর। আমি তো অবাক ।শেষে ঐ হুকোমুখো টাআমাকে বিয়ে করবে ?আর সে কথাটা আমি ই জানি না ।কেউ আমাকে বলার প্রয়োজন ও মনে করলো না ।আমি কি এতটাই এলেবেলে

error: