গাড়িটা কখনো একশো কিংবা একশো পঞ্চাশ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে হাঁইরোড দিয়ে চলছিল । একেবারে মাখনের মত রাস্তা , অর্ণব কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনছিল আর রাস্তার পাসে ক্ষেত দেখছিল , সেই ক্ষেতের কোনও শেষ নেই , যত দূর চোখ যাই সুধু সবুজ আর সবুজ । হটাত একটি গাড়ি পাস কাঁটিয়ে যেতে , দমকা হাওয়া লেগে তার ডান কানে লাগানো হেডফোন টা খুলে গেলো , সে কিছুটা বিরক্তই হল তাঁতে । এখন রাস্তা তত টা সুভিদের নয় , কিছু কিছু জাগাই ভাঙা থাকার ফলে গাড়িতে বেশ ঝাঁকুনি আনুভাব কড়ছে ওরা , হটাত সামনের সিটে বসা অর্ণব এর বাবা বলে উঠল , জানলা টা বন্ধ কর , সামনের রাস্তা ভালো নয় ধুলো ঢুকবে , সেটা বলে সে নিজের সিটের পাঁশের জানলা টা বন্ধ করলো , তা দেখে তার মা ও একই কাজ করলো , আর তাই দেখে অর্ণব কেউ আনিচ্ছাক্রিত হয় জানলা বন্ধ করতে হল । সে ড্রাইভার কে জিজ্ঞেস করলো , আর কতক্ষন লাগবে কাকু বিস্নুপুর পৌছতে ? সে বল্ল আর আধ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব বাবু ।
( অর্ণব , একাদশ বর্ষের ছাত্র , কলকাতা তে থাকে , অনেকদিন হয় গেলো কথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না , বলে জেদ ধরেছে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার । শেষ পর্যন্ত অনেক বলে বলে রাজি কড়াতে পেড়েছে বাবা কে , গরম এর ছুটিতে তারা যাবে সিকিম ঘুরতে , আর শেখান থেকে বিস্নুপুর তার মামা বাড়ি । বিস্নুপুর জাগাটি উত্তর দিনাজপুর জেলাই অবস্থিত , বাংলাদেশ বর্ডার এর গায়ে লাগানো একটি গ্রাম , আর যে জাগাই তার মামা বাড়ি সে জাগার নাম হল বামইর । )
দেখতে দেখতে গাড়ি ঢুকে গেলো গ্রামের রাস্তা , সেই গাড়ি ঢোকা দেখে গ্রামের ছেলে ছকড়া রা বেশ উত্তেজিত হয়ে দউরচ্ছে আর গাড়ির উদ্দেশে হাত বাড়িয়ে টাটা কড়ছে । অর্ণব এর বেশ মজা লাগছিল দেখে , তার জানলার কাঁচ নেমে এসেছে প্রাই অনেক্ষন , হটাত করে হাওয়া টা যেন মনে হচ্ছে দূষণ মুক্ত , স্যাত স্যাতে মাটির মিষ্টি সুভাষ , কিছুক্ষন পর পরি ছোটো ছোটো পুকুর এর আবির্ভাব , দেওয়াল ভরা ঘুঁটে আর প্রচুর জমি জমাট , সব মিলে মিশে যেন এক আভিনব আনুভুতি সৃষ্টি করে তুলছে অর্ণব এর মনে , সে যে কি ছেঁড়ে কি দেখবে তাল খুঁজে পাচ্ছে না । গাড়ি টা একটি দকানের সামনে দাঁর করাল ড্রাইভার , অর্ণব এর বাবা গাড়ি থেকে নেমে দকানে গিয়ে এক প্যাকেট সিগারেট কিনল আর দোকানদার কে জিজ্ঞেস করলো , পরেশ মণ্ডল এর বাড়ি টা কোথাই , সে বল্ল সামনে গিয়ে যে সামনে গিয়ে যে প্রথম ডান দিক টা পড়বে শেখান দিয়ে ঢুকে একদম রাস্তার শেষে যে বড় জমি আলা বাড়ি টি আছে , সেটা হল গিয়ে পরেস মণ্ডল এর বাড়ি ।
অর্ণব এর মামা বাড়ি তে তার মামা , মামি , তাদের এক ছেলে যে ক্লাস ফোড় এ পরে , আর তার বাবা মানে পরেস মণ্ডল থাকে । পাচ বিঘে জমির মাঝে তাদের বাড়ি অবস্থিত , সামনে বিস্তর বাগান , তাঁতে আম গাছ , কাঁঠাল গাছ আরও প্রচুর ফুলের গাছ আছে । টিনের ছাদের বাড়ি কিন্তু দেখে মনে হয় বেশ পরিপাটী করে সাজানো , বেস ভালো অবস্থা তেই আছে দেখে মনে হয় । বাড়ি তে চারটে রুম , একটা বড় ড্রয়িং রুম আর দুটো বাথ্রুম , বেশ সাজানো গুছনো সংসার ।
যখন ওরা পউছল তখন বাজে প্রাই দশটা , গাড়ি বাড়ির সামনে থামতেই , অর্ণব এর মামা বেড়িয়ে এসে বল্ল , আরে এসো এসো , কতদিন পর , রাস্তাতে কোনও আসুবিধে হয়ই নি তো এ সব বলে নিজেই ব্যাগ গুল তুলছিল ঘরে নিয়ে যাবার জন্য , এই দেখে অর্ণব এর বাবা বল্ল আরও দারাও নিচ্ছি এতো ব্যাস্ত হয়ও না , বলে অর্ণব কে বল্ল একটা ব্যাগ নিতে । সব কাজ সাড়ার পর ওরা ঘরে ঢুকে বসলো । বসার প্রাই কিচ্ছুক্ষন পর অর্ণব এর মামি এসে বল্ল , ক্যামন আছো তোমরা সবাই বোলো । এ সব কথে বেস খানিক্ষন চলার পর সে বল্ল , তোমরা সকাল থেকে তো কিছুই খাও নি দারাও তোমাদের খাবার ব্যাবস্তা করি তারপর না হয় একসাথে বসে চা খাওয়া যাবে । লুচি , আলুর চচ্চড়ি আর মিষ্টি দিয়ে খাবার সাড়ার পর , স্নান করে ফ্রেশ হয় ওরা বসলো বাইরের ঘরে । এরই মধ্যে পরেস বাবু তার নাতি কে স্কুল থেকে নিয়ে চলে এসেছে । ছেলেকে জামা কাপর ছারিয়ে , চা বানিয়ে সে সেটা কে নিয়ে এসে সবাই কে দিয়ে চেয়ার টেনে বসলো । অর্ণব সবার কথা শুনছিল , আর তাঁতে বোঝা গেলো যে তাদের বাড়ি থেকে বাংলাদেশ বর্ডার পাচ সাত মিনিট লাগে , সেখাঙ্কার নিওম হল তুমি বর্ডার পার করে যেতে পারবে আর সকাল থেকে বিকেল অবধি থাকতে ও পারবে কিন্তু তারা একটা চিরকুট দেবে যেটা কে ওরা পাস বলে সেটা সঙ্গে রাখতে হবে এই হল গিয়ে নিওম । আজ মামার ছেলে যাবে ওখানে খেলতে , তাই মামা বল্ল তার ছেলে কে যে যাওয়ার সময়ই দাদা কে সঙ্গে নিয়ে যাবি , এই শুনে বাচ্চা ছেলেটি এক পাসে ঘাড় বেঁকিয়ে হ্যাঁ বল্ল ।
দুপুর এর খাওার দারুণ আয়জন , অখান কার খেতের তুলাই পাঞ্জি চাল , মুসুর এর ডাল , একটি সব রকম মিসান তরকারি , পুকুর এর তাজা কই মাচ দিয়ে বানান তেল কই আর কচি পাঁঠার মাংস । বেস মন আর পেট ভরে তৃপ্তি করে খেলো ওরা সবাই । অর্ণব এর খাওয়া টা খুব ভালো লেগেছে সে এরম খাবার আগে কখনো খাই নি । কিন্তু তার চে বেসি সে আনন্দিত ভেবে যে সে কতক্ষনে ওই জাগা টি তে যাবে ।
অর্ণব খাটের একপাসে কবালিসে মাথা দিয়ে শুয়ে ছিল , হটাত কেউ বলে উঠল দাদা চলো , অর্ণব রীতি মত ছমকে গেলো , চোখ মেলতেই সে দেখে তার মামার ছেলে তাঁকে ডাকছে যাওয়ার জন্য , সে সাত্তারাতারি বিছানা থেকে নেমে , তার ব্যাগ এর থেকে একটি জগারস প্যান্ট আর একটি টি শার্ট বের করে পরে নিল আর হালকা ডিও স্প্রে করে নিল বাচ্চা তার চোখের আড়ালে ।
রাস্তাই যেতে যেতে অর্ণব বাচ্চা টিকে জিজ্ঞেস করলো , তোমার নাম কি , সে বল্ল আমার নাম রনি , বলেই পাল্টা প্রস্ন করলো তোমার নাম কি , অর্ণব বল্ল আমি ? আমি … অর্ণব । এরকম কথা চলতে চলতে ওরা পৌঁছে গেলো গন্তব্বস্তলে । জাগাটা দারুণ , এক পাসে ক্ষেত , প্রচুর গাছ পালা , বেস কটা দিঘির মত রয়েছে , আর ক্ষেত যেখানে শেষ হচ্ছে শেখান দিয়ে চলে গিয়েছে বিসাল লম্বা কাঁটা তারের ফেন্স , ওপারেই হল বাংলাদেশ । দেখে তো মনে হচ্ছে না কিছু আলাদা , তাও অর্ণব ভাবলও শেখানে গিয়ে হয়ই তহ কিছু আলাদা পাবে । অর্ণব রনিকে জিজ্ঞেস করলো , আচ্ছা রনি তোমরা ওপারে যাও ? রনি বল্ল হ্যাঁ কেন যাব না , আমার সব বন্ধু তো ওখানেই , আর আজ আমদের ফুটবল ম্যাচ আছে , ওরা সবাই বোধই চলে এসছে , চলো দাদা তাড়াতাড়ি । এসব কথা শুনে অর্ণব যেন আরও উত্তেজিত হয় গেলো । রনিকে আনুসরন করে অর্ণব তার পেছন পেছন যাচ্ছে , ফেন্স এখন খুব সামনে , রনি এক জাগাই গিয়ে দাঁর হল , অর্ণব শেখানে গিয়ে দেখল , ফেন্স এর নিচের অংস টা বেশ খানিকটা ছেঁরা , যার মধ্যে দিয়ে একটা আস্ত মোটা মানুস ঢুকে যেতে পারবে নিরাপদে । অর্ণব রনি কে জিজ্ঞেস করলো , আচ্ছা বাড়ি তে তো শুনেছিলাম পাস নিয়ে যেতে হয় , তাহলে আমরা এভাবে যাচ্ছি কেন ? রনি বল্ল ও কোনও আসুবিধে হয় না খেলতে যাচ্ছি তার আবার পাস কীসের । এই বলে তারা বর্ডার পার করে পৌঁছে গেলো বাংলাদেশ । ওরা শেখানে গিয়ে দেখে রনির বন্ধু রা সব ফুটবল নিয়ে পাস পাস খেলছিল , এখন ম্যাচ শুরু হয় নি । রনি সামনে যেতেই তারা বলে উঠল , কিরে এতো দেড়ি কেন ? রনি বল্ল ওই বেরতে দেড়ি হয় গেছে ভাই , চল খেলা শুরু করি । রনি আবার অর্ণব ক্র জিজ্ঞেস করলো দাদা তুমি খেলবে ? অর্ণব বল্ল না তরা খেল আমি চারপাশ টা ঘুরে দেখি একটু , এই বলে অর্ণব চলে গেলো । আর ইতিমদ্ধে রনি দেড় খেলা আরাম্ভ হল ।
অর্ণব এর ঘুরতে বেশ ভালো লাগছিল , সে ভেবেছিল বেশ কিছু জিনিশ আলাদা হবে , কিন্তু সে কোনও পার্থক্য খুঁজে পেল না বাংলাদেশ এর মাটি তে , মনে হল যেন নিজের জাগাতেই রয়েছে সে , একই মাটি ,গাছ, হাওয়া, সব কিছুর সাথে সে যেন খুব পরিচিত । কাঁটা তার এ হইত জমি , দেশ আরও কত কিছু ভাগ হয় যাই কিন্তু মনের মিলন কি কোনদিন ভাগ হতে পারে ? বাংলাদেশের ওপর জমা মেঘ যদি ভারতে এসে বর্ষাই সেটা কি কোনোভাবে আটকানও যাবে । বাংলা বাসি সব সময়ই এক থাকে তাঁকে কখনো এপার বা ওপার বাংলা দিয়ে ভাগ করা যাই না , বা একটা কাঁটা তার এর দউলতে মানুষের মনের মিলন কোনোদিন কাটে না ।
সে হাঁটতে হাঁটতে বেস দূরে চলে গিয়েছিল , শেখানে হটাত দেখতে পেল , একটি বড় পুরনো গাছের ছাওয়াই একটি মেয়ে বসে রয়েছে , ওড়না টা তার মাথার ওপর স্কার্ফ এর মত করে জরানো , পড়নে তার চুড়িদার ও লেগিন্স , লেগিন্স টা হালকা রং হওয়ায়ে বেশ কটি জাগাই ধুলর ছাপ স্পষ্ট , কিন্তু তাঁতে তার কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই , সে আপন মনে কিছু সুকন পাতা আর ঘাশ নিয়ে কিছু একটা করছিল । অর্ণব বেশ ভয় ভয় হালকা পায়ে তার কিছু টা সামনে গিয়ে দাঁড়াল । মেয়েটির বয়স বেসি নয় অর্ণব এর মতন ই হবে প্রাই পনেরো ষোল , সদ্য বুক ফুটেছে , শরীরে মেয়ে থেকে মহিলা হওয়ার চিহ্ন রয়েছে , পরিস্কার গায়ের রং , বেশ টানা টানা চোখ চোখা নাক আর ডান পাঁশের দাঁতে একটি গজ দাঁত । সব মিলে মিসে বেশ সুশ্রী দেখতে । অর্ণব বেস কিছুক্ষন তাকি থাকল তার দিকে । কিন্তু মেয়ে টি মুখ তোলার ফলে তাঁকে তার দৃষ্টিভঙ্গ করতে হল । অর্ণব এর মনে হল মেয়ে টা যেন তার দিকে তাকিয়েও না তাকানর ভান করলো । সে বাড়ি থেকে আসার সময়ই তার বাবার সিগারেট এর বাক্স থেকে সিগারেট আর দেশলাই নিয়ে এসেছিল । সে সদ্য সিগারেট খাওয়া শিখেছে , গত বার বন্ধু দেড় সঙ্গে টিউশন এর বাইরে খেয়েছিল আর তারপরে আজ । অর্ণব অন্য দিকে ঘুরে সিগারেট বের করে , তিন চারটে দেশলাই নষ্ট করবার পর পাচ নম্বর টি তে সফল হয়ই ধরাল । প্রথম ধোওয়া টা যাওয়ার সাথে সাথে হালকা কাসি এসেছিল , কিন্তু সেটা সহ্য করে সে মেয়েটির দিকে ঘুরে দাঁড়াল । এখন সে একটু বরদের মত করেই সিগারেট ধরে ধোয়া ছাড়ছিল । হটাত মেয়ে টি বলে উঠল …… ” বাব্বা এই বয়সে সিগারেট খাইতস , মইরা যাবা তো ” । অর্ণব প্রাই সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল , না না কিচ্ছু হবে না আমি তো খাই , তার উত্তর শুনে মনে হল সে যেন এই প্রস্নরি অপেক্ষাই ছিল । মেয়েটি বল্ল ” ঠিক আসে খাও , অশুক হইলে তমাগ হবে আমার কি ” । অর্ণব কথা টা শুনে কিছু টা হেসে বল্ল , নাম কি তোমার , তুমি এখানেই থাকো ? মেয়েটি কিছুক্ষন চুপ থেকে বল্ল ” আমি শিরীন এই সামনের গ্রামে থাকি , তুমি কই থাকো ” ? প্রস্ন টা সোনার পর বেশ খানিকটা হকছকিএ গেলো , সে বল্ল আ ……… আঃ … আমি তো ওপারে থেকি , মা … মানে কলকাতা তে থেকি , এখানে ঘুরতে এসেছি মামাবারি , তাই রনি , মানে আমার ভাই বল্ল ওরা খেলতা আসে এখানে তাই আমিও চলে এলাম দেখতে যে ক্যামন এ জাগা , ওরা সবাই ওখানে খেলছে । মেয়েটি চুপ করে বসে বসে শুনল অর্ণব এর কথা , তারপর বল্ল ” তো বোলো ক্যামন দেখলা এ দ্যাশ ” ? একই রকম কিছুই তো পার্থক্য নেই । এই শুনে মেয়েটি বল্ল ” আমদের এইখানে একখান বড় সুন্দর জাইগা আসে , যাইবা আমার লগে , বেসি দূর না ” ? অর্ণব দারুণ উত্তেজিত হয় বল্ল , হ্যাঁ চলো যাওয়া যাক । এই বলে তারা হাটা দিল ।
যেতে যেতে অর্ণব জিজ্ঞেস করলো শিরীন কে , তুমি কন ক্লাস এ পড়ো । শিরীন বল্ল ” টেন এ , আমাদের গ্রামের স্কুলে ” । অর্ণব আবার জিজ্ঞেস করলো তোমার কোনও বন্ধু নেই , একা একা বসে ছিলে গাছের নীচে ? শিরীন বল্ল ” থাকবে না কেন , আমার এই জাগা টা বড় ভালো লাগে , তাই সময়ই পাইলেই চইলা আসি । একা থাকতে খুব ভালো লাগে তাই ” । সে কথা শেষ করে অর্ণব কে জিজ্ঞেস করলো , “তোমার কি ভালো লাগে গ্রাম না শহর” ? অর্ণব বল্ল , সব কিছুরই ভালো খারাপ আছে , শহর কখনো ভালো বা কখনো খারাপ অথবা , গ্রাম কখনো ভালো বা কখনো খারাপ । মানুশ কখনই নিজের জিনিশ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় , তাই আমি চেষ্টা করি যে কোনও জাগার ভালো জিনিশ টা নিয়ে থাকতে । এই শুনে শিরীন , খানিক চুপ করে থেকে বল্ল ” তুমি না পুরা বুইরা বেটা গুলার মত কথা কউ । যাই হক । এই গ্রামে কি কি ভালো লাগল কউ শুনি । ” অর্ণব বল্ল ভালো তো অনেক জিনিশ লাগল , খাওয়া দাওয়া , সান্ত সিস্ত পরিবেশ , মানুস জন , আর এই যে তোমার সাথে দেখা হওয়া , সব মিলে মিশে বেশ ভালই লাগছে । এই শুনে শিরীন বেশ চুপ হয় গেলো ।
হাঁটতে হাঁটতে , ওরা যে কখন ওই জাগাটিতে পৌঁছে গেলো , বুঝতেই পারল না । অর্ণব তার ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখে যাচ্ছে । এই জাগাটি বেশ সুন্দর , হালকা জঙ্গল জঙ্গল আছে , সামনে একটি ছোটো মৃত নদি যা দিয়ে সরু স্রোত বয়ে যাচ্ছে , আর সেই নদিতি পার করবার জন্য একটি কাঠের ব্রিজ । সব মিলে মিশে যেন অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছিল জাগাটা । শিরীন জিজ্ঞেস করলো ” কি হে বুইরা বেটা ক্যামন লাগল জাইগাটা , কউ ?” । অর্ণব বল্ল , কি বলে দাক্লে তুমি আমাই ? শিরীন বল্ল ” কেন বুইরা বেটা কইয়া ডাকলাম । কেন খারাপ পাইলা , ঠিকাসে আর দাকুম না , কউ ক্যামন লাগল ?” অর্ণব একটু চুপ করে থেকে বল্ল , ভারি সুন্দর জাগা । তুমি কি এখানে প্রাই আসো ? শিরীন বল্ল ” হ্যাঁ ওই সময়ই পাইলেই চইলা আসি ” এই বলে সে হাটা দিল আর অর্ণব কে বল্ল ” চলো গিয়ে অইখানে বসি , পা বেথা করে ” । অর্ণব তাঁকে অনুসরন করে , একটি পাথর এর ওপর তার পাসে গিয়ে বসলো । অর্ণব বল্ল , একটা সিগারেট খেতে ইছহে হচ্ছে , খেয়েনি বোলো । শিরীন কোনও উত্তর দিল না । অর্ণব পকেট থেকে সিগারেট আর দেশলাই বের করে এই বার কোনোমতে একবারেই ধরিএ ফেলল । দু তিন বার ধোয়া টানার পর শিরীন হটাত বলে উঠল , ” তোমরা কি পাও এতে , যত সব ছাতার মাথা ” । এই শুনে অর্ণব বল্ল না খেলে বোঝা যাই না এতে কি পাওয়া যাই । অর্ণব এর কথা শেষ হওয়া মাত্রই শিরীন এক ঝটকাই তার হাত থেকে সিগারেট টা কেরে নিল , নিয়ে বল্ল ” আমিও দেখি কি পাওয়া যাই এতে ” বলে সে এক লম্বা টান দিতে না দিতেই কাস্তে কাস্তে ধোওয়া ছারল , আর মুখটা ক্যামন করে অর্ণব কে ফেরত দিয়ে দিল , দিয়ে বল্ল ” ছি , কি ফালতু খাইতে ! এরম জিনিশ পাওনের চে না পাওন ঢের ভালো । এই শুনে অর্ণব বেশ একটা বড় মানুস মারকা হাঁসি হাসল । তারপর বেশ কটা টান মারার পর সিগারেট টা ফেলে দিয়ে , পা দিয়ে চাঁপা দিয়ে দিল ।
এরপর তারা নদীতে পা চোবাল , গাছ থেকে কামরাঙ্গা পেরে খেলো , ছোটো সাইজ এর একটি বাতাবী লেবু পেরে টা দিয়ে ছরাছুরি খেল্ল , আরও নানা রকম জিনিশ দিয়ে তাদের কে তারা মাতিয়ে রাখলও । এখন তাদের দেখে কেউ বুঝতে পারবে না যে তাদের আজ দেখা হয়েছে , তারা যেন অজান্তেই দারুণ বন্ধু হয় গেছে । তারা যে অন্য দেশ বা অন্য জাত , সেটা দেখে বঝবার কোনও উপাই নেই । ভবিষ্যতে কি হবে জানা নেই , তবে বর্তমানে দেখে মনে হচ্ছে , তারা একে ওপর কে মানুশ হিসেবে গ্রহন করেছে , মানুষের জাত হিসেবে নয় । এ যেন এক জলের মত সচ্ছল সম্পর্ক , জাতে কোনও রকম নগ্রা নেই , যা দেখেও মনে তৃপ্তি আসে ।
ওরা দুজন তাদের বানানো দুনিয়া তে হারিয়ে গিয়েছিল , এতটাই যে কখন সন্ধে নেমে এসেছে তা তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই । হটাত অর্ণব এর মতই ফিরল , সে বল্ল , এ বাব্বা রাত্রি হয় গেলো তো , আমাকে বাড়ি যেতে হবে , রনি দেড় বোধই খেলা শেষ হয় গিয়েছে । না এখন যাই বুজলে শিরীন , পারলে কালকে দেখা কোর , একি জাগাই থেকো যেখানে ছিলে আজকে , আমি চলে আসব সময়ই মত বিকেলের দিকে । আজ তাহলে যাই টাটা । এই বলে অর্ণব পা বারাতে যাচ্ছিল আর তক্ষুনি শিরীন বলে উঠল , ” জাইতস যে , চিন্তে পারবা তুমি জাগাটা , চলো আমি আগাই দিয়া আসি ” । এই বলে ওরা রউনা দিল । এরই মধ্যে অন্ধকার হয় এসেছে বেশ , চার দিকে ঝি ঝি পকার ডাক , হালকা শিত ও লাগছে । অর্ণব জিজ্ঞেস করলো শিরীন কে যে , আমাকে তো এগিয়ে দিচ্ছ এরপর তুমি যেতে পারবে তো । এই শুনে শিরীন ঠোটের কনে হালকা হাঁসি হেসে বল্ল ” আমাগো জাইগাই আমারে কইতস জাইতে পারুম কিনা ! তুমি আমাগো দ্যাশে আইস , আমার কাজ হইল গিয়ে তমারে সুস্থ সবল ভাইব্বে তমাগ দ্যাশে ট্রান্সফার করা ” বলে সে আবার হাসল । এই হাঁসি তা অর্ণব এর চোখে পরল , আর সে বল্ল , তোমার হাঁসি তা খুব সুন্দর জানো । শিরীন বল্ল ” আমি মাইয়া টাই বড় মিষ্টি ” । এবার ওরা হাতার হাঁটার গতি বাড়াল ।
শেখানে পউছন মাত্র অর্ণব অবাক ! সে দেখল ওখানে কেউ নেই । অর্ণব চারপাশ ঘুরে দেখতে লাগল , কিন্তু সব ফাকা । সে বল্ল শিরীন কে , বড্ড দেড়ি হয় গেলো গো আস্তে । সে শিরীন কে জিজ্ঞেস করলো , আচ্ছা তুমি কি জানো এখানে ওই কাঁটা তারের নীচে ছেঁড়া জাগাটা কোথাই আছে । শিরীন বল্ল ” হ্যাঁ জানি তো , ওই যে সামনে । চলো আমার লগে , নিয়া জাইতিসি ” । শেখানে গিয়ে তারা একে ওপর এর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে , জড়িয়ে ধরল । তারপর অর্ণব বল্ল । খুব ভালো লাগল তোমার সাথে দেখা করে , আজ যাই , দেখি যদি কাল আস্তে পারি তাহলে আসব , তুমি ওই গাছের নিচ টাতেই থেকো , টাটা । অর্ণব এর কথা শেষ না হতেই , শিরীন হটাত করে তার ঠোট অর্ণব এর ঠোটের ওপর বসিয়ে দিল , অর্ণব প্রথমে ব্যাপার তা বুঝেই উঠতে পারে নি , যখন বুঝতে পারল তখন শিরীন তার ঠোট শরাতে যাচ্ছিল , কিন্তু অর্ণব তার হাত শিরীন এর ঘারে রেখে আবার চুমু খেতে চাইল , আর শিরীন ও তাঁতে কোনও আপত্তি করলো না । বেশ কিছুক্ষন তাদের মধ্যে দীর্ঘতম চুম্বন চলার পর তারা স্বাভাবিক পরিস্থিতি তে এসে একে ওপর এর দিকে তাকিয়ে থাকল । এবার শিরীন বলে উঠল ” সাভধানে যাও , আর কাল পারলে দেখা কইর , আমি ওখানেই থাকুম নে । টাটা এখন যাই , আর দেড়ি করলে মা মাইর দিবে , টাটা আসি ” বলে সে জঙ্গল এর দিকে দউর লাগাল । আর অর্ণব দেখল শিরীন ক্যামন করে অন্ধকার আর গাছপালার মাঝে মিলিয়ে গেলো ।
এখন বেশ অন্ধকার হয় এসেছে । অর্ণব প্রথমে ভালো করে হাত দিয়ে তার টা কে পরিক্ষা করে নিয়ে নীচে ঝুঁকল , আর মাথা টা কে ফেন্স এর ভেতর দিয়ে ঢোকাল । আর হটাত তক্ষুনি তার চোখের সামনে একটি উজ্জ্বল আলো ফুতে উঠল , সে বুজতে না পেরে হাত দিয়ে সেটা কে আটকানোর চেষ্টা করতে গেলো কিন্তু পারল না । সাথে সাথে পেছন থেকে কেউ চিৎকার করে বল্ল । কে …… কে … ওখানে , এইদিকে আসো জলদি , বলে আবার আলো ফেলতে লাগল । অর্ণব দারুণ ভয় পেয়ে হুরমুর করে ফেন্স পার হতে যাচ্ছিল, আর তক্ষুনি ধারাম ধারাম , বেশ কটা গুলি চলার আওাজ কানে আস্ল তার । এই শুনে তার পা অবশ হয় গেলো , সারা শরীর কাপতে আরম্ভ করলো , সে এখন চাইলেও তার শরীর নিয়ে এগতে পাড়ছে না । আর তক্ষুনি তার পিঠে সে একটা জরদার আঘাত আনুভাব করলো , আর সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে পরে গেলো । মুহূর্তের মধ্যেই তার চোখের সামনে টা অন্ধকার হতে লাগল , অনেক্ষন পর পর শ্বাস চলছিল তার , তার এখন চোখ খলার ও খমতা নেই , এরই মধ্যে তার চোখের সামনে ভেশে উঠল তার মা , বাবার মুখ , সেটা আবছা হতেই শিরীন এর মুখ টা আস্তে না আস্তেই অন্ধকার এর মধ্যে মিলিয়ে গেলো ।
বাংলাদেশের আর্মি তাঁকে হসপিটাল নিয়ে যেতে যেতেই , সে রাস্তাই তার শেষ নিঃশ্বাস ফেলে। এরপর বডি পাঠানো হয় ইন্ডিয়া , অর্ণব এর মামা বাড়িতে । তার মা বাবা , বা বাড়ির প্রত্যেক সদস্য যেন বিশ্বাস ই করতে পাড়ছে না , যে যেই ছেলে সকালে আস্ত গেলো , সে রাত্রে এরম হয় ফিরবে । অর্ণব এর শেষ স্রদ্রা মামা বাড়ি তেই সারা হল ।
জথারিতি পরের দিন সকাল হোল । ঝলমলে রদের সকাল , হালকা ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে , পাখিদের কিচিরমিচির আওাজ , আর দারুণ সান্ত পরিবেশ । শিরীন এর ভরে ওঠার স্বভাব । তার আর তর সইছে না যে কতক্ষনে বিকেল হবে , আর সে যাবে সেই গাছটির নীচে । শিরীন এর মনে হতে লাগল , দিন টা যেন আজ কাটতেই চাইছে না , বড় আস্তে চলছে সময়ই । অবসেশে অপেক্ষার পালা শেষ হোল , আর সে রউনা হোল বাড়ি থেকে । সে যে ১৬ -১৭ বছরের একটি মেয়ে , এখন তাঁকে দেখে সেটা বঝবার কোনও রকম উপাই নেই । সে বাচ্চা দেড় মত লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে , আর ঠোটের কনে অনবরত একটা হাঁসি যেন লেগেই রয়েছে । গাছের সামনে টা পছন মাত্র সে তার হাঁটার গতি কমিএ নিজেকে স্তিতিসিল করলো । একবার চারপাশ টা ভালো করে চোখ বুলিয়ে দেখে নিল , যে অর্ণব এসে পউছেচে কি না । কিন্তু তাঁকে না দেখতে পেয়ে , সে সেই গাছটির নীচে হেলান দিয়ে , পা মেলে বসে পরল তার অপেক্ষায়ে । কিন্তু সময়ই এর মত সময়ই বয়ে যাই , অর্ণব আর আসে না । বিকেল ঘনিয়ে গধুলি চলে এল , আর কিছুক্ষনের মদ্ধেই সন্ধে হবে । শিরীন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না , তার এখন অল্প অল্প রাগ হতে লাগল । সে মনে মনে ভাবতে লাগল , যে অর্ণব ও কি সবার মত , “কাজের বেলা কাজি কাজ ফুরলেই পাজি ” । শিরীন এর এখন আর কিছুই ভালো লাগছে না । সে আর অপেক্ষা না করে বাড়ির উদ্দেশে রউনা হোল । এখন তার মনে অর্ণব এর প্রতি খুব রাগ হচ্ছে , তার কাছে এখন পৃথিবীর সব থেকে খারাপ মানুশ যদি কেউ হয় থাকে তাহলে সেটা হোল অর্ণব । কিন্তু ভাগ্যক্রমে অর্ণব এই প্রিথিবিতেই নেই , নইলে সে শিরীনের কাছে সবচেয়ে খারাপ মানুশ টি হয় থেকে যেত , আর সেটা সে কোনদিনই চাইত না ।
হয়ত , তাদের সদ্য শুরু হওয়া গল্পের দৌড় এতটাই ছিল । যা কাঁটা তার কেতে দিয়ে চলে গেলো ।

error: